আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ ভারতীয় বংশোদ্ভূত গ্যাংস্টার নীতিশ কৌশল ওরফে লালাকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। কানাডা সীমান্ত থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্মন্টের অলবার্গ থেকে গত বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ভারতের কুখ্যাত ‘জগ্গু ভগবানপুরিয়া’ অপরাধ চক্রের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য।
গতকাল শনিবার (১৮ জুলাই) মার্কিন আদালতের বরাতে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার এড়াতে এই গ্যাংস্টার নিজের মুঠোফোন ফেলে দিয়ে আত্মগোপনের চেষ্টা করেছিলেন। ধরা পড়ার পর তিনি নিউজার্সির একটি জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করে পরিচয় লুকানোরও চেষ্টা করেন। বিচার শুরুর আগে তাঁর পালিয়ে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকি থাকায় তাঁকে কারাগারে আটকে রাখার আবেদন জানিয়েছেন মার্কিন প্রসিকিউটররা।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নীতিশ কৌশল পাঞ্জাবভিত্তিক একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের (সিন্ডিকেট) সঙ্গে জড়িত। এই চক্রের বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ, মাদক পাচার, চাঁদাবাজি, অস্ত্র চোরাচালান ও মানব পাচারের মতো ভয়াবহ অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি তাঁর বিরুদ্ধে ‘রিকো’ ষড়যন্ত্রের (সংঘবদ্ধ অপরাধ) অভিযোগে মামলা করে। এরপর ৭ জুলাই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হলে এফবিআই তাঁকে তাদের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
গত বৃহস্পতিবার কানাডা সীমান্তের কাছে একটি গাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ভার্মন্টের এক বাসিন্দা তাঁর বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় এক সন্দেহভাজনকে খামারে ঢুকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। এরপর সীমান্ত এলাকা থেকে এক মাইলের মধ্যে কৌশলকে আটক করেন ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টরা। এ সময় তিনি অন্য নামে নিউজার্সির একটি জাল লাইসেন্স দেখালেও আঙুলের ছাপ ও শরীরের একটি বিশেষ সিংহ চিহ্নিত ট্যাটু দেখে এফবিআই তাঁর আসল পরিচয় নিশ্চিত করে।
আদালতের ৪৪ পৃষ্ঠার অভিযোগনামায় জানা গেছে, ‘জগ্গু ভগবানপুরিয়া’ চক্রের প্রধান সদর দপ্তর ভারতে হলেও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ায় এর নেটওয়ার্ক বিস্তৃত। একসময় কারাবন্দী কুখ্যাত ডন লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সহযোগী ছিলেন এই চক্রের প্রধান। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী তাদের এক হাজারের বেশি সক্রিয় সদস্য রয়েছে, যার মধ্যে শতাধিক যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে।
আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, চক্রটি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে কানাডা সীমান্তে কোকেন ও মেথামফেটামিনের বড় বড় চালান পাচার করত। ২০২২ সালে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকা নীতিশের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে খুন ও অস্ত্রের মামলা হয়েছিল। চলতি বছরেও তাঁর বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা ছিল। তাঁর অপরাধের ভয়াবহতা ও পালিয়ে যাওয়ার অতীত রেকর্ড বিবেচনা করে তাঁকে কোনো অবস্থাতেই জামিন না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ফেডারেল প্রসিকিউটররা।

ডেস্ক রিপোর্ট